bengali

যাদবপুরে অচলাবস্থা এখনও জারি, শিক্ষামন্ত্রীর কাছে গেলেন উপাচার্য

Webdesk | Saturday, July 7, 2018 8:38 AM IST

যাদবপুরে অচলাবস্থা এখনও জারি, শিক্ষামন্ত্রীর কাছে গেলেন উপাচার্য

কলা বিভাগে ভর্তির প্রবেশিকা পরীক্ষার দাবিতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনও অচলাবস্থা কাটেনি। ৩১ ঘন্টা ঘেরাও থাকার পর উপাচার্য সুরঞ্জন দাস ঘেরাও-মুক্ত হলেও ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের একাংশ এখনও তাদের দাবিতে অনড়। কলা বিভাগের ছ’টি বিষয়ে প্রবেশিকার প্রশ্নে ধর্মঘট পালন করেছেন পড়ুয়ারা। আর কর্মবিরতিতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের একাংশ। 

প্রতিষ্ঠানের পরিস্থিতি নিয়ে উপাচার্য সুরঞ্জন দাস শুক্রবার আচার্য-রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠীর সঙ্গে দেখা করেন। ইতিমধ্যে আরও দু’টি বিভাগের শিক্ষকেরা এ দিন জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা ভর্তি প্রক্রিয়ায় যোগ দিচ্ছেন না।

উল্লেখ্য, কলা বিভাগে ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তর জলঘোলার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, কলা বিভাগের ছ’টি বিষয়ে প্রবেশিকার বদলে এ বার নম্বরের ভিত্তিতে ভর্তি নেওয়া হবে। এর পিছনে রাজ্য সরকারের হাত রয়েছে বলেই মনে করছেন শিক্ষক ও পড়ুয়ারা। বিষয়টি নিয়ে আন্দোলনে নামেন ছাত্রছাত্রীরা। কর্মবিরতি ডেকেছিল শিক্ষক সংগঠন জুটা। গাঁধী ভবনের সামনে অবস্থানে বসে তারা। তাঁরা প্রয়োজনে এই বিষয়ে আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন বলে জানান জুটা-র সহ-সম্পাদক পার্থপ্রতিম রায়।

বুধবার কর্মসমিতিতে নম্বরের ভিত্তিতে ভর্তির সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরেই ঘেরাও হন উপাচার্য। তবে বৃহস্পতিবার মাঝরাতে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে বাড়ি চলে যান তিনি। এ দিন তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে যাননি। সকালে প্রথমে সহ-উপাচার্য প্রদীপকুমার ঘোষকে নিয়ে তিনি যান শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর, শিক্ষামন্ত্রীকে পরিস্থিতির কথা জানান উপাচার্য। পার্থবাবু তাঁর কাছে জানতে চান, তাঁর নাম জড়ানো হচ্ছে কেন? উপাচার্য জানান, তাঁর কাজ চালাতে অসুবিধা হচ্ছে। তাঁকে আচার্যের কাছে যেতে বলেন মন্ত্রী।

 সাংবাদিকদের এড়িয়ে শিক্ষামন্ত্রীর বাড়ির পিছনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে যান সুরঞ্জনবাবু। বিকেলে সহ-উপাচার্যকে নিয়ে রাজভবনে যান তিনি। রাজভবন সূত্রের খবর, আচার্য ত্রিপাঠীকে তিনি গত কয়েক দিনের ঘটনাবলির কথা মৌখিক ভাবে জানান। কী রকম কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে তাঁকে কাজ করতে হচ্ছে, রাজ্যপালকে সেটাও জানান তিনি। আচার্য তাঁকে পুরো বিষয়টি লিখিত ভাবে রিপোর্টের আকারে পেশ করতে বলেন।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলা, ইতিহাস, ইংরেজি, তুলনামূলক সাহিত্য, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও দর্শনে প্রবেশিকার বদলে এ বার নম্বরের ভিত্তিতে ভর্তি করা হবে। এর বিরোধিতায় ইংরেজির অধিকাংশ শিক্ষক ভর্তি প্রক্রিয়ায় থাকবেন না বলে জানিয়েছিলেন বৃহস্পতিবার। সেই পথেই এ দিন বাংলা ও তুলনামূলক সাহিত্যের শিক্ষক-শিক্ষিকারাও ভর্তি প্রক্রিয়ায় যোগ দেবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তুলনামূলক সাহিত্যের বিভাগীয় প্রধান স্যমন্তক দাস বলেন, 'শিক্ষকেরা যে-সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাতে আমার সম্পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।'