bengali

মহার্ঘভাতা সংক্রান্ত মামলায় রাজ্যের কাছে আরও তথ্য চাইল হাইকোর্ট

Webdesk | Tuesday, January 30, 2018 8:23 PM IST

মহার্ঘভাতা সংক্রান্ত মামলায় রাজ্যের কাছে আরও তথ্য চাইল হাইকোর্ট

গতকাল সোমবার মহার্ঘভাতা সংক্রান্ত মামলায় রাজ্যের কাছে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি তথ্য চাইল কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্ত এবং শেখর বি শরাফের ডিভিশন বেঞ্চ। বেঞ্চের বক্তব্য, এই ভাতা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সরকারি কর্মীরা সত্যিই কতটা ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা আদৌ ক্ষতিগ্রস্ত কি না, স্বচ্ছতার সঙ্গে তা বিচার করতে গেলে এই তথ্যগুলি প্রয়োজন। 
২০০৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে মহার্ঘভাতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত ঘোষণা পর্যায়ক্রমে কোন তারিখে হয়েছে? এ সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশিকার নম্বর কী ছিল? প্রতি ক্ষেত্রে শতাংশ বৃদ্ধির হার কত ছিল? কবে থেকে সেই বর্ধিত হার দেওয়া হয়েছে? বকেয়া ভাতা কবে, কীভাবে মেটানো হয়েছে? উল্লেখ্য, মামলাকারী সরকারি কর্মীদের অভিযোগ, এই ভাতা মেটানো নিয়ে যাবতীয় সমস্যার সূত্রপাত ২০০৯ সালের ১ এপ্রিল থেকে। 
আদালতে মামলাকারীদের আইনজীবী সর্দার আমজাদ আলি এদিন সওয়ালে বলেন, কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স বা সর্বভারতীয় ক্রেতা মূল্য সূচককে ভিত্তি করে মহার্ঘভাতা বৃদ্ধির হার বছরে দু'বার নির্ধারিত হয়ে থাকে। একবার জানুয়ারি ও আরেকবার জুলাই মাসে। রোপা আইন অনুযায়ী কত শতাংশ বৃদ্ধি হবে, তা ঠিক করা হয়। 
কিন্তু, ২০০৯ সালের ১ এপ্রিলের পর দফায়-দফায় বহুবার এই ভাতা দেওয়া হয়নি। এমন দাবির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ওই বছরের এপ্রিলে যে মহার্ঘভাতা বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করা হয়, তা দেওয়া হয়েছিল ওই বছরের ডিসেম্বর মাসে। এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত বৃদ্ধির হার ছিল ১৬ শতাংশ। যা নিয়মিতই দেওয়া হয়েছে। জুলাই থেকে ভাতার পরিমাণ বেড়ে হয় ২২ শতাংশ। রাজ্য নিজেই সেই ঘোষণা করেছিল। কিন্তু, ডিসেম্বরে যখন সব বকেয়া একসঙ্গে মেটানো হয়, তখন জুলাই থেকে নভেম্বরের জন্য পাওনা অতিরিক্ত ছ' শতাংশ টাকা মেটানো হয়নি। অর্থাৎ ছ' শতাংশ হারে পাঁচ মাসের প্রাপ্য মেটানো হয়নি। ২০১০ সালে একইভাবে অন্তত তিন মাসের পাওনা বকেয়া রয়েছে। দাবি করা হয়, প্রায় প্রতি বছরই এমন কাণ্ড হয়ে চলেছে। যা রাজ্য মানতে চাইছে না।
মামলাকারীর তরফে এদিন আরও বলা হয়, প্রতি ছ’মাস অন্তর মহার্ঘভাতা বৃদ্ধির হার ঘোষণা করতে হয়। বিষয়টি আদৌ সরকারের মর্জির উপর নির্ভরশীল নয়। অথচ, সরকারের এমন মানসিকতার জন্য প্রায় প্রতি বছরই এমন ঘোষণা দেরিতে করা হচ্ছে।